কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের হেসাখাল ইউনিয়নের চক্রলোদী গ্রামে কিশোরী গৃহবধূ সায়েমা আক্তারের হত্যাকান্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী কাঠ মিস্ত্রি জাহিদ হোসেনের বিচার দাবি ও থানায় হত্যা মামলা না নেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। শনিবার সকাল থেকে সায়েমার পিতার বাড়ি আজিয়াপাড়া গ্রামের শত-শত নারী-পুরুষ ব্যানার, ফেস্টুন হাতে নাঙ্গলকোট থানা ফটকে অবস্থান নেয়। পরে তারা থানা ফটকে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ও থানা এলাকায় মিছিল করে। এসময় গ্রামবাসী রাস্তায় শুয়ে বিক্ষোভ করার ফলে সড়কে দীর্ঘ যানযট সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভ শেষে এলাকাবাসী নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদ ভবনের প্রধান ফটকে মানববন্ধন করে। এছাড়া বিক্ষোভকারীরা জাতীয় বিপ্লব সংহতি দিবসে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া আসার খবরে অনুষ্ঠান স্থলে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত গৃহবধূ সায়েমা’র পিতা শামীম, মা কসুম বেগম, বোন সাহিদা, শারমিন আক্তার, ভগ্নিপতি জয়নাল আবেদীন রিপন, চাচা সেলিম ও সমাজ সেবক হাফেজ আল-আমীন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, আজিয়া পাড়া গ্রামের সমাজসেবক হাজী অহিদুর রহমান, আবুল কালাম, কামরুজ্জামান, সাহাব উদ্দিন, নাছির উদ্দীন, সোহাগ, সাফায়েত, রুবেল, শরীফ, ফরহাদ, মিরাজ, মোর্শেদ, জাহিদ, নূরু, সোহেল প্রমুখ।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে সায়েমা আক্তারের স্বামীর বাড়ি চক্রলোদী গ্রাম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ। সায়েমা ওই গ্রামের কাঠ মিস্ত্রি জাহিদ হোসেনের স্ত্রী। গত ৬ মাস পূর্বে পারিবারিক ভাবে অপ্রাপ্তবয়স্ক সায়েমার সাথে জাহিদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর জাহিদ ও তার পরিবার উপহারের নামে বিভিন্ন মালামাল দাবি করে, সায়েমার রিক্সা চালক পিতা তাদের চাহিদা গুলো মেটাতে না পারায় পারিবারিক কলহ শুরু হয় বলে জানান নিহতের পরিবার। এছাড়া স্বামী জাহিদ নোয়াখালী’র এক নারীর সাথে পরকীয় লিপ্ত থাকায় এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে দাবি করেন সায়েমার বড় বোন সাহিদা । জাহিদ চক্রলোদী গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের পুত্র। সায়েমা আক্তার একই ইউনিয়নের আজিয়া পাড়া গ্রামের রিকশা চালক মোহাম্মদ শামীমের কন্যা।
নাঙ্গলকোট থানা অফিসার ইনচার্জ শাহিনূর ইসলাম বলেন, থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।