আমি নামে মাত্র প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সকল কাজ করেন চেয়ারম্যান।জোড্ডা পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১% এর ২৮ লক্ষ টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগ।

প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২৬

আমি নামে মাত্র প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সকল কাজ করেন চেয়ারম্যান।জোড্ডা পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১% এর ২৮ লক্ষ টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগ।
নাঙ্গলকোট  প্রতিনিধি: নাঙ্গলকোট উপজেলার জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন মজুমদারের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের  উন্নয়ন তহবিলের ১ % অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম এবং জন্মনিবন্ধন ও ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহীতাদের নিকট থেকে  অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ ব্যপারে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে!চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন মজুমদারের কথোপকথনের সোসালমিডিয়া একটি অডিওতে ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সদস্যকে অশিক্ষিত উল্লেখ করে সমালোচনা করতে শোনা যায় । অন্য একটি অডিওতে রেজুলেশনের মাধ্যমে ১ % পুরো টাকা নিজে ভোগ করার বিষয়ে তাঁকে কথা বলতে শোনা যায়। তবে অডিওগুলোর সত্যতার মিল রয়েছে।  ইউনিয়ন পরিষদের হাটবাজারসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য প্রতিবছর ১ শতাংশের তহবিলে প্রায় সাত লাখ টাকার  জমা হয়। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্যের অভিযোগ, প্রায় চার বছর দায়িত্ব পালন করেও তাঁরা এ খাত থেকে কোনো অর্থ পাননি কিংবা কোনো প্রকল্পের বরাদ্দ পাননি।
এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন করতে ৩০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কান্দাল গ্রামের এক ভুক্তভোগীর দাবি, তাঁর কাছ থেকে ৩টি  জন্মনিবন্ধনের জন্য ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। প্রথমে কাজ হবে না বলা হলেও টাকা দেওয়ার পর এক দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হয় বলে জানান তিনি।
হেসাখাল ইউনিয়নের আজিয়াপাড়া গ্রামের সেলিম অভিযোগ করে বলেন, জোড্ডা পূর্ব ইউনিয়নের পানকরা গ্রামে বিয়ে করার পর স্ত্রীর তার জন্মনিবন্ধন অনলাইনে করতে জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদে গেলে তাঁর কাছ থেকে ৩৫০ টাকা নেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, আবেদন ফি, বিদ্যুৎ বিল, অফিস ভাড়া, সচিব ও চেয়ারম্যানের জন্য পৃথক অর্থের কথা বলে ওই টাকা নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গোহারুয়া গ্রামের মনির হোসেনের অভিযোগ, জন্মনিবন্ধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের সচিব তাঁর কাছ থেকে ৪০০ টাকা নেওয়া হয়।
ওয়ারিশ সনদ নিয়েও অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন মান্দ্রা গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল হোসেন। তিনি বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর তাঁর বাবা ও দাদার ওয়ারিশ সনদের জন্য আবেদন করেন। পরে আবেদনপত্র নিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তিনি ১ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দেওয়ার পর ১০০ টাকা কম রেখে ৯০০ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগকারীদের দাবি, জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ ও নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে তাঁদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সরকারি ফির তালিকা প্রকাশ এবং ১ % তহবিলের আয়-ব্যয়ের হিসাব তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ দিকে সংবাদ সংগ্রহ শেষে চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন মজুমদারের  পি এস মোহাম্মদ সাহাবউদ্দিন তার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে লিখেন সাংবাদিক কে যেখানে পাবে সেখানে তার উপর হামলা পরিচালনা করবেন, চেয়ারম্যান ভাতিজা  সবুজ মজুমদার তার ফেসবুক আইডিতে সাংবাদিক কে হামলা করার হুমকি দেন, চেয়ারম্যান সহযোগী মির্জা নাজমুন হাসান ফরহাদ তার ভেরিফাই ফেসবুক পোস্টে ফেস দ্যা পিপল নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি  সাংবাদিক রাশেদ হোসাইন কে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন।
এ বিষয় ফেস দ্যা পিপল নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি সাংবাদিক রাশেদ হোসাইন বলেন তাকে চেয়ারম্যানের সহযোগীরা হত্যার হুমকি দেও এব্যাপারে ১১ অক্টোবর নাঙ্গলকোট থানায়  সাধারণ ডায়েরি করেন যাহার নং ৪৯৩।
এ ব্যাপারে জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন মজুমদার কে একাধিক বার ফোন করার পর তিনি ফোন রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি ফোন কেটে দেওয়ার কারণে তার  বক্তব্য নেওয়ার সম্ভব হয়নি।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশীষ কুমার বলেন আমার কাছে জন্ম নিবন্ধন ছাড়া কোন কিছু নাই সবকিছু চেয়ারম্যান কাজ করেন।
 এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান বলেন, আমি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। সংবাদে উত্থাপিত প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করা হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেইসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ