হেসাখালে আদালতে বিচারাধীন বিরোধকৃত জমি দখল পায়তারার অভিযোগ 

প্রকাশিত: ৪:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২৬

হেসাখালে  আদালতে বিচারাধীন বিরোধকৃত জমি দখল পায়তারার অভিযোগ 
কেফায়েত উল্লাহ মিয়াজী :
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের হেসাখাল ইউনিয়নের উরুক চাইল গ্রামের মোল্লা বাড়িতে বোনের ওয়ারিশদের জমি জোরপূর্বক দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ওই গ্রামের মরহুম দুধা মিয়া মোল্লার পুত্র এনামুল হক মোল্লার বিরুদ্ধে। দুধা মিয়া মোল্লার ৩ পুত্র এবং ৩ কন্যা ও এক মৃত কন্যার ওয়ারিশ রেখে মৃত্যু বরণ করেন। পিতার মৃত্যুর পর বি.এস জরিপে চক্রান্ত করে ভাই এনাম মোল্লা তার বোন ফাতেমা বেগম ও পিতার পূর্বে মৃত্যু বরণ করা  বোন আনোয়ারা বেগমের সন্তানদের নাম খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত না করে খতিয়ান সৃজন করেন। এ ব্যাপারে অবগত হয়ে বোন ফাতেমা বেগমের সন্তানরা জমি দাবি করলে মামা এনাম মোল্লা  খতিয়ানে নাম নেই দাবি করে জমি দিতে অস্বীকৃতি জানায় ও তাদের উপর হামলা চালিয়ে আহত করে। এছাড়া মৃত বোন আনোয়ারার সন্তানদের বাবার আগে মেয়ে মারা গেলে জমি পায়না বলে মিথ্যা অযুহাত দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় ফাতেমার সন্তানরা বাদি হয়ে বিএস খতিয়ান সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা দায়ের  করে ও পিতার পূর্বে মৃত্যু হওয়া বোন আনোয়ারার সন্তানরা  মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৪ ধারা অনুযায়ী মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া এনাম মোল্লা ও তার পুত্র জাহাঙ্গীর ও সাদ্দাম মোল্লার বিরুদ্ধে বাড়ির প্রায় শতবছরের চলাচলের রাস্তায় গাছের গুড়ি ও বাঁশ রেখে চলাচলে বাধা দেয়া, অশালীন আচরণ ও বিভিন্ন ভাবে প্রতিবেশীদের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় নাঙ্গলকোট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী মমিনুল হক মোল্লা। সর্বশেষ মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের সহযোগিতায়  আদালতে মামলা চলমান জমি দখলের জন্য সার্ভেয়ার দিয়ে পরিমাপের চেষ্টা চালায় অভিযুক্ত এনামুল হক মোল্লা। পরে পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত হলে আদালতে মামলা চলমান জমি পরিমাপ করা যাবে না বলে পরিমাপ বন্ধ করে দেন সার্ভেয়ার ওমর ফারুক। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ভুক্তভোগী মমিনুল হক মোল্লা ও আমিনুল হক মোল্লা বলেন, এনামুল হক মোল্লা ও তার ছেলেরা আমাদের বাড়িতে সবসময় অশান্তি সৃষ্টি করে আসছে। কিছুদিন পর-পর বাড়ির চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ও আদালতে বিচারাধীন জমি দখলের জন্য বাড়িতে  উচ্ছৃঙ্খল লোকজন নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি করে।
মৃত ফাতেমার মেয়ে ভুক্তভোগী ঝর্ণা বেগম বলেন, আমার মায়ের নাম চক্রান্ত করে বি.এস খতিয়ান থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। আমরা যখনি জমির কথা বলি তখন মামা এনাম মোল্লা ও তার ছেলেরা আমাদের উপর আক্রমণ, হুমকি ও গালমন্দ করে। আমরা বি.এস খতিয়ানে আমার মায়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে আদালতে মামলা করেছি।
মৃত আনোয়ারা বেগমের কন্যা জানি আক্তার বলেন, আমার নানা দুধা মিয়া জীবিত থাকা অবস্থায় আমার মায়ের মৃত্যু হয়। কিন্তু জরিপের সময় এনাম মামা আমাদের নাম খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করেনি। আমরা জমি দাবি করলে তিনি আমাদেরকে হুমকি দিয়ে বলেন বাবার আগে মেয়ে মারা গেছে কোন জমি পাবেনা। আমরা খতিয়ানে আমাদের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ১৯৬১-এর ৪ ধারা অনুযায়ী মুসলিম পারিবারিক আইনে মামলা দায়ের করবো।
অভিযুক্ত এনামুল হক মোল্লার মোবাইল ফোন নাম্বারে একাধিক বার ফোন দিয়ে রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের উপপরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আদালতে বিচারাধীন বিরোধকৃত জমিতে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন ধরনের কার্যক্রম চালাতে নিষেধ করেছি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেইসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ