কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কৃষি পাম্প নিয়ে দ্বন্ধের জেরে ১৪শতক জমিনের সরিষা ও ১৮শতক জমিনের বীজতলা ধ্বংসের অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ এক কৃষক। উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বাহেরগড়া গ্রামের কৃষক মনতাজ উদ্দিন (৭৩) লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবী করেন, নিজের ডিপ সেলু মেশিনের মাধ্যমে দীর্ঘ বছরে ধরে বাহেরগড়া ও সলাকান্দি এলাকার কৃষি জমিনে পানি দিয়ে আসছেন। একই এলাকার কৃষি জমিনে আরেকটি ডিপ সেলু মেশিন পরিচালনা করেন একই গ্রামের ফরিদ উদ্দিন (৫৫) নামে অপর ব্যক্তি। এ নিয়ে দ্বন্ধের জেরে গত কয়েকমাস আগে মনতাজ মিয়ার মেশিনের সকল তার চুরি করে নিয়ে যায় চোরচক্র। এ সুযোগে ফরিদ উদ্দিন মনতাজ মিয়ার সেলু মেশিনের আওতাধীন কৃষি জমিনে পানি দেয়া শুরু করেন। কিছুদিনের মধ্যে মনতাজ মিয়া আবারো সেলু মেশিন চালু করে পানি সেচ দেয়া শুরু করেন। এতে ফরিদ উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে মনতাজ মিয়ার ব্যক্তিগত ১৪শতক সরিষা ফসলে পানি দিয়ে নষ্ট করে ফেলেন। অতিরিক্ত পানি প্রদানের ফলে উপর্যুক্ত সরিষাগুলো একেবারেই নষ্ট হয়ে পড়ে। মনতাজ মিয়া দাবী করেন, শুধু সরিষা নষ্ট করেই ক্ষান্ত হয়নি ফরিদ উদ্দিন। কয়েকদিনের মধ্যে ফরিদ উদ্দিনের সেলু মেশিনের পাশের মনতাজ মিয়া মালিকানাধীণ ১৮শতকের বীজতলা পানি না দিয়ে নষ্ট করে ফেলেন। মনতাজ উদ্দিন জানান, শরিষা ও ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ায় এই মৌসুমে তিনি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। তিনি আরও দাবী করেন, সেলু মেশিনের বৈদ্যুতিক তারও ফরিদ উদ্দিনের যোগসাজেসে চুরি হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে ফরিদ উদ্দিন দাবী করেন, ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণেই মন্তাজ উদ্দিন এমন অভিযোগ করছেন। বহু বছরের পুরনো ড্রেনে সেলু মেশিনের পানি প্রবাহিত হয়। ড্রেনের পাশে মন্তাজ উদ্দিনের সরিষার ফসলে অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু পানি প্রবেশ করে। তিনি আরও বলেন, বীজতলার পাশে মনতাজ মিয়ারও সেলু মেশিন রয়েছে। তাহার বীজতলায় ইচ্ছে করেই তিনি পানি দেননি।
৮নং মুন্সীরহাট ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আল আমিন জানান, বীজতলা ও সরিষা নষ্টের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করি। একই ফসলী মাঠের নির্দিষ্ট দুরত্বে ইতোপূর্বে একটি ডিপ সেলু মেশিন থাকলেও নিয়ম না মেয়ে মন্তাজ উদ্দিন আরেকটি সেলু মেশিন বসান। সরিষা ফসলের পাশেই ড্রেন থাকায় কিছু অংশে পানি প্রবেশ করে।