১২ ঘন্টায় ২০০ কিলোমিটার বাইসাইকেল চালিয়ে বাড়ী ফিরলেন নাজিম

প্রকাশিত: ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২১

১২ ঘন্টায় ২০০ কিলোমিটার বাইসাইকেল চালিয়ে বাড়ী ফিরলেন নাজিম

মাঈন উদ্দিন দুলাল- নাজিম উদ্দিন পেশায় একজন ফ্রিজ ও এয়ারকন্ডিশন মেকানিক সহকারী। চাকুরী করেন ঢাকার মগবাজারে। তার বাড়ী  নাঙ্গলকোটে। লকডাউনে আটকা পড়ায় একটানা ২০০ কিলোমিটার বাইসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরলেন তিনি। একজন কিশোর হয়ে এত বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করায় অবাক স্বজনরা। এমন সাহসিকতাকে স্বাগত জানিয়েছেন তার বন্ধু-বান্ধব, পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী ।
জানা যায়, উপজেলার পেরিয়া ইউনিয়নের কাজী জোড়পুকুরিয়া গ্রামের মৃত হাফেজ ইসমাঈল হোসেনের ছোট ছেলে নাজিম উদ্দিন, থাকেন ঢাকার কল্যাণপুর এলাকার একটি মেসে। চাকুরী করেন মগবাজারের একটি ফ্রিজ ও এয়ারকন্ডিশন মেকানিক দোকানে। বর্তমান লকডাউন শুরু হওয়ায় তিনি যে দোকানে চাকুরী করেন দোকানটি বন্ধ হয়ে যায়। থেমে যায় তার আয় রোজগারের চাকা। মেসে যাদের সাথে থাকতো তাদের বাড়ী ঢাকার আশপাশে হওয়ায় সবাই চলে যায় বাড়ীতে। তিনি একা তাই মেসে রান্নাও বন্ধ। সব মিলিয়ে সে হয়ে যায় দিশেহারা। লকডাউনের কারণে ট্রেন ও দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় বাড়ি ফেরা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন। তারপরও গাড়ী পাওয়ার আশায় গত বুধবার বাসা থেকে বাড়ী যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন , সারা দিন রাজধানীর বাস টার্মিনাল গুলোতে গুরে কোন গাড়ী না পেয়ে রাতে বাসায় ফিরেন।
পরের দিন বৃহস্পতিবার ভোর রাতে টেলিভিশনে দেখেন ওই দিন থেকে কঠোর লকডাউন। সে চিন্তা করলো বাঁচতে হলে আমাকে বাড়ী ফিরতেই হবে। তাই যে চিন্তা সেই কাজ। সম্বল তার প্রতিদিন কর্মস্থলে যেতে ব্যবহার করা বাইসাইকেল। সকাল ৬টায় সে যাত্রা শুরু করেন ঢাকার কল্যাণপুর থেকে। চলার শুরুতেই রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় পড়েন পুলিশের জেরার মুখে। দিনভর বাইসাইকেল চালিয়ে সন্ধ্যা লগ্নে ফিরেন নিজ গন্তব্যে। পথি মধ্যে সে দাউদকান্দিতে সকাল ১০টায় নাস্তা করেন। পরে আবার সাইকেল চালানো শুরু করেন। কুমিল্লার হক ফিলিং স্টেশন এলাকায় পড়েন বৃষ্টির কবলে, বসে থাকতে হয় বেশ কিছুক্ষণ। বৃষ্টি বন্ধ হলে আবার পথ চলা শুরু করে লালমাই উপজেলার বাগমারা এলাকায় এলে আবারো যাত্রা বিরতি করতে হয়েছে, বৃষ্টির কারণে এবার যাত্রা কিছুটা বিঘœ ঘটলেও থেমে যাননি তিনি। প্রায় ১২ ঘণ্টা সাইকেল চালিয়ে পৌঁছে যান নিজ বাড়ীতে।
এ ব্যাপারে নাজিম উদ্দিন বলেন, আমি নিরুপায় হয়েই ঢাকা থেকে এতো কষ্ট করে সাইকেল চালিয়ে বাড়ীতে এসেছি। ঢাকায় থাকলে আমি খাবারের অভাবে হয়তো মরেই যেতাম। লকডাউনে আমরা যারা নি¤œ আয়ের মানুষ আমাদের বিষণ কষ্ট। আমরা না পারি কাজ করতে, না পারি খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে।
নাজিম উদ্দিনের সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে অভাবনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তার এমন সাহসিকতায় এলাকার মানুষ তাকে অভিনন্দন জানান।

Please follow and like us:

ফেইসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ